
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে নিয়োগের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।
সুপারিশপ্রাপ্ত ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের (৪৫ ব্যাচ) পাঁচজন রয়েছেন। তারা হলেন—পলাশ সরকার, হাসেল শেখ, মাহমুদ আফনান, তুহিন আক্তার তুলি ও লাইবা তাসনিয়া।
এ ছাড়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (৪৬ ব্যাচ) মাহবুব সাঈদী, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭ ব্যাচ) আশরাফুন্নাহার রুপালী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮ ব্যাচ) তারিকুল ইসলাম ও সাবিকুন নাহার এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৪৯ ব্যাচ) আফিয়া জামান সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন বিভাগের অবস্থান ও অর্জন প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করায় তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সহকারী জজ পরীক্ষায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের সফলতা অব্যাহত রয়েছে।
অধ্যাপক রবিউল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অর্ধশত শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
তবে বিভাগের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আইন বিভাগ এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়নি। বিভাগের নিজস্ব অফিস, শিক্ষার্থীদের জন্য মুট কোর্ট ও সেমিনার লাইব্রেরি নেই। পুরো বিভাগে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে কাজের সূত্রে হংকংয়ে অবস্থান করছেন জানিয়ে অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, আগামী মাসের শুরুতে দেশে ফেরার আশা করছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সীমাবদ্ধতা ও অপ্রতুল সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা যেভাবে সাফল্য অর্জন করছেন, তা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কিছু করতে না পারায় শিক্ষক হিসেবে তাঁর মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে।
তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে অনেক বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যান্য ফ্যাকাল্টির জন্য একাধিক ভবন বরাদ্দ থাকলেও আইন বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি