প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই পক্ষের আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলে দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো চুক্তি না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে পরে স্টিভ উইটকফ জানান, তিনি ও জ্যারেড কুশনার সরাসরি ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেননি। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনা এগিয়ে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইটকফ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
উইটকফ জানান, আলোচনার একটি ধাপ শেষ হয়েছে। তিনি এটিকে গঠনমূলক হিসেবে উল্লেখ করে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। মধ্যস্থতাকারীরা পরবর্তী পর্যায়েও তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত তুলে ধরেছেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দ্রুত তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ দ্রুত ফেরত দেওয়া এবং বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ করা।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ট্রাম্প প্রস্তুত রয়েছেন। রুবিও বলেন, সমস্যা সমাধানে আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ট্রাম্প। তবে আলোচনায় বসলেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি