
দেশের অর্থনীতিতে প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। অতীতে নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান-আহরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বস্ত্র খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিটিএমএর দাবিগুলো
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সম্প্রতি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রপতির কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে বিটিএমএ।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিসংক্রান্ত এনবিআরের আদেশ বহাল রাখা। সংগঠনটির দাবি, এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ছাড়া নন-বন্ডেড শিল্পে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল এবং এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সব রপ্তানিতে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে। এতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন ও রপ্তানি সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত চাপসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি, যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে বিটিএমএর সহসভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, শফিকুল ইসলাম সরকার, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকারসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ