প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ পিএম

চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের চাহিদা মেটাতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি দরপত্র ছাড়াই একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সরাসরি বা দরপত্র ছাড়া পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে পরিশোধিত জ্বালানি কেনার যে শর্ত ছিল, বুধবারের বৈঠকে তা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে জিটুজি চুক্তির আওতায় চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। তবে কত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা হবে, তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আগস্টেও দুই দফায় দরপত্র ছাড়া আরও ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
গত ১৯ আগস্ট সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে ৬ আগস্ট দরপত্র ছাড়া আট কার্গো এলএনজি এবং জরুরি এলপিজি চাহিদা পূরণে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হওয়া এবং সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের মান্দেব প্রণালি ঘিরে হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্যান্য উৎস থেকেও তুলনামূলক বেশি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। চাহিদা পূরণে কিছু ক্ষেত্রে দরপত্র ছাড়াই জ্বালানি কেনার পথও বেছে নেওয়া হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ