
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ। চীন, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সদস্য দেশগুলো শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) একটি যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এমন সব পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বাণিজ্য, জ্বালানি ও নৌ চলাচলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো।
☢️ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা
ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএর নজরদারির আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা গভীর উদ্বেগের বিষয়। যুদ্ধের সময়ও পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে, যাতে মানুষ ও পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়।
🕊️ গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়া নিয়েও উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস।
চারটি অঞ্চলের সংকট নিরসনে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর তীব্র মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
🤝 মতপার্থক্য থাকলেও ঐক্যের বার্তা
এবারের সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতপার্থক্য কমাতেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের যৌথ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গতিপথ তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দেবে—এমন সম্ভাবনা কম। তবে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলো আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকটে একটি সমন্বিত অবস্থান তুলে ধরতে আগ্রহী—এই বিবৃতি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীরের মতে, যুদ্ধ বন্ধের মূল চাবিকাঠি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে। তবে ভারতের উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অঞ্চলটির দেশগুলো একই টেবিলে বসে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি