
ফুসফুসের বয়স যে সবসময় মানুষের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে, এমন নয়। বয়স ৩০ বা ৪০ বছর হলেও ধূমপান, বায়ুদূষণ, পরোক্ষ ধূমপানসহ বিভিন্ন কারণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি বয়সী মানুষের মতো হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুসফুসের এই কার্যক্ষমতাকে বোঝাতে ‘লাং এজ’ বা ফুসফুসের বয়স ধারণাটি ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত একই বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক গঠনের সুস্থ মানুষের প্রত্যাশিত ফুসফুসের কার্যক্ষমতার সঙ্গে একজন ব্যক্তির ফুসফুসের সক্ষমতার তুলনা। তবে লাং এজ কোনোভাবেই একজন মানুষ কত বছর বাঁচবেন, তার পূর্বাভাস নয়।
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের অন্যতম সাধারণ পরীক্ষা হলো স্পাইরোমেট্রি। এ পরীক্ষায় একজন ব্যক্তি কতটা বাতাস ফুসফুসে নিতে ও কত দ্রুত তা বের করতে পারেন, তা পরিমাপ করা হয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় বয়সের তুলনায় বড় ধরনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
ফুসফুস দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। তামাকের ধোঁয়া ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও কোষের ক্ষতি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে শ্বাসনালির আবরণ এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকাও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর।
বাইরের বায়ুদূষণও ফুসফুসের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করে। যানবাহন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম কণা ও ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে রান্নাঘরের ধোঁয়া, কঠিন জ্বালানির ব্যবহার ও অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের কারণে ঘরের ভেতরের দূষণও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে।
কর্মক্ষেত্রের ধুলা, রাসায়নিক ও ধোঁয়ার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও ঝুঁকি বাড়ায়। নির্মাণ, খনি, টেক্সটাইল ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাজ করা ব্যক্তিদের যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি বারবার বা গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং কিছু বংশগত কারণেও ফুসফুস তুলনামূলক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমার বিষয়টি সবসময় শুরুতেই বোঝা যায় না। অনেক সময় মানুষ ধীরে ধীরে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেন এবং সেটিকে স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন বলে মনে করেন। আগে অনায়াসে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারলেও পরে লিফট ব্যবহার করা, অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাওয়া, সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়া কিংবা শ্বাসকষ্টের কারণে পছন্দের কাজ এড়িয়ে চলা—এসব লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
তাই বয়স কম হলেও ফুসফুস সুস্থ আছে—এমন ধারণা সবসময় সঠিক নয়। ধূমপান থেকে দূরে থাকা, দূষিত বাতাস ও ক্ষতিকর কর্মপরিবেশে যথাযথ সুরক্ষা নেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিয়মিত কাজকর্মে আগের তুলনায় শ্বাসকষ্ট বা সক্ষমতা কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি