প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম

ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই ভাত বা রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ না দিয়ে কতটা এবং কোন ক্রমে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। খাবার খাওয়ার এমন একটি পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’। এতে প্রথমে শাকসবজির মতো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, এরপর প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং সবশেষে ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সাধারণত ভাত ও রুটির মতো কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার শরীরে দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। খাবারের শুরুতে ফাইবার ও প্রোটিন গ্রহণ করলে হজম ও খাবার অন্ত্রে পৌঁছানোর গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে খাওয়া কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্লুকোজ রক্তে তুলনামূলক ধীরগতিতে শোষিত হতে পারে।
খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে রাখা যেতে পারে শাকসবজি ও অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার। এরপর মাছ, মাংস, ডিম বা ডালের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়া যেতে পারে। সবশেষে পরিমাণ অনুযায়ী ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট রাখা যেতে পারে।
এই পদ্ধতির আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা কিংবা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে সুষম খাবার, পরিমিত কার্বোহাইড্রেট এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু খাবার খাওয়ার ক্রম পরিবর্তন করলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ, খাবারের মোট ক্যালরি, নিয়মিত ব্যায়াম, ঘুম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি