প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ৩:৪৫ PM

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ গত ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দেশটির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ডে পিক আওয়ারে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছিল। তবে ওই দিন সন্ধ্যার পিক আওয়ারে আর কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
নেপালের বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে। নেপালের ভোটেকোশি নদী এলাকায় গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
নেপাল বর্ষা মৌসুমে গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে থাকে। তবে বন্যার পর দেশটির মোট বিদ্যুৎ রপ্তানি প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ফলে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে নেপালের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, সাম্প্রতিক দুর্যোগে তা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। গত সপ্তাহ থেকে প্রকল্প দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
নেপাল দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে দেশটি নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশও ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ তৈরি করেছে।
কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই সরবরাহে এখন সাময়িক ছন্দপতন ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি