প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সমান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ হাজার ৩৮৫ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।
প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে আসা এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার বেশি। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।
অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং দেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, যা রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থার তুলনা করতে আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবকেও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি