প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ পিএম

ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালনে টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের বন্দরে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর অবকাশযাপনের সুযোগ পেলেও থাইল্যান্ডে নামার পরপরই মারামেলার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন রণতরিটির দুই মার্কিন নাবিক।
পরিচয় প্রকাশ না করা ওই দুই নাবিককে মাতাল অবস্থায় মারামেলায় জড়ানোর অভিযোগে আবার জাহাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে পাতায়ায় নির্ধারিত পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় তাঁদের রণতরিতেই থাকতে হবে।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এমএস নাও জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে এক থাই নাগরিক জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে দুই মার্কিন সেনার মারামেলার খবর দেন। ঘটনাটি ঘটে শহরের একটি পানশালার কাছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের হ্যার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড যৌথ অপারেশন সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁদের ফেরত পাঠানো হয় রণতরিতে।
এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘সামান্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই সেনাই মদ্যপ ছিলেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জরুরি নম্বরে ফোন করা হয়েছিল।
নিমিটজ-শ্রেণির ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ গত বুধবার থাইল্যান্ডের লেম চাবাং বন্দরে নোঙর করে। প্রায় নয় মাস সমুদ্রে থাকার পর রণতরিটির নাবিক ও মেরিন সেনারা কয়েক দিনের বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছেন।
তবে দীর্ঘ এই সামরিক মিশন নিয়ে এর আগেই নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। রণতরিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার রসদ সংকট এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকজন সেনা জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রণতরিটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালনের জন্য নাবিক ও মেরিন সেনাদের প্রশংসা করেন।
এদিকে পাতায়ায় অবস্থানকালে রণতরিটির সেনাদের অবকাশযাপনের সুযোগ রয়েছে। সমুদ্রতীরের এই শহরটি পর্যটন, বার, ক্লাব ও রাতের বিনোদনের জন্য পরিচিত। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বেসামরিক পোশাকে স্থানীয় এলাকায় ঘুরতে, বিয়ার পান করতে এবং পরিচিত খাবার খেতে দেখা গেছে।
রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট লাফরান বলেছেন, লেম চাবাংয়ে পৌঁছানো নাবিক ও মেরিন সেনাদের বিশ্রাম নেওয়া এবং নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ