ভর্তি পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণে জানা গেছে, অধ্যাপক মুনিরুল হক ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। শুধু তাই নয়, তার ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের যে ব্যবহারিক পরীক্ষার গ্রুপে অংশ নেন, সেখানেও তিনি পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক, তার সন্তান বা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া ভবনে ওই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও তার থাকার সুযোগ নেই।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অধ্যাপক মুনিরুল হক তার ছেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন—এ তথ্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
অধ্যাপক মুনিরুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় ৪৭ নম্বর পেয়ে ৩ হাজার ২৫৫তম হন। পরে তিনি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ নম্বরসহ মোট ৭৮ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম স্থান অর্জন করেন।
জানা গেছে, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ১১ সদস্যের একজন ছিলেন অধ্যাপক মুনিরুল হক। এ ছাড়া ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তিনটি গ্রুপের ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও তিনি পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে ‘সি’ ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিষয়টি লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে জানাতে হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনে ওই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তবে অধ্যাপক মুনিরুল হক এ ধরনের কোনো আবেদন করেননি বলে তিনি জানান।
নিজের ছেলের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন অধ্যাপক মুনিরুল হকও। তিনি বলেন, ছেলের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষায় তিনি শুধু পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন এবং নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ তার ছিল না। নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন, কিছুটা নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তবে এতে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহীও অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।