
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির তিনটি এলাকায় প্রায় ৮০০ মানুষ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সংসদীয় কমিশনের সদস্য চার্লস হনোরিস।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫১২ জন শিক্ষার্থী। একই প্রদেশের নগানজুকে আরও ৪৯ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
অর্থাৎ তিনটি ঘটনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৮ জনে।
চার্লস হনোরিস ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনা পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর এমন মন্তব্যের পর দেশটির সরকারের বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অপুষ্টি মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এই বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন। বহু কোটি ডলারের এই বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় দেশটির কোটি কোটি শিশুকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুরু থেকেই কর্মসূচিটি নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে। খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ছাড়াও দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জাতীয় পুষ্টি সংস্থা চার্লস হনোরিসের প্রকাশ করা তথ্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন ওয়াচও কর্মসূচিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংস্থাটির দাবি, গত ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক বড় ধরনের খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় ৩৭ হাজার ৬০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় পর পৌঁছানোর কারণে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। বড় পরিসরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহ করার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্মসূচিটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
জনসমর্থনের দিক থেকেও কর্মসূচিটি চাপের মুখে রয়েছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, কর্মসূচিটি নিয়ে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সন্তুষ্ট। জরিপে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলোকে মানুষের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলা এবং তাদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হলেও খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বৃহৎ এই খাদ্য কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশুর কাছে খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি কীভাবে খাদ্যের গুণগত মান, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। সাম্প্রতিক বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলো সেই ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলোই সামনে নিয়ে এসেছে।