
কালকিনিতে আমন ধানের বাম্পার ফলন
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার মহোৎসব। সোনালী ধানে স্বপ্ন বুনছে কৃষক, বাড়ির আঙিনায় নতুন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত দিন পার করছে কৃষাণ-কৃষাণীরা। একদিকে ধান কাটা, আর অন্যদিকে ধান মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত তারা। আবহমানকাল থেকেই বছরের এই সময় অগ্রহায়ণ মাস এলেই নতুন ধান ঘরে তুলে বাংলার কৃষকেরা, আর। সেই সাথে শুরু হয় ঘরে ঘরে নবান্নের হাওয়া, নতুন সুগন্ধি ধান দিয়ে মেতে ওঠে পিঠে পায়েষের উৎসবে। তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে মাদারীপুরের কালকিনিতে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিক ও কৃষকেরা। খেতে কেউ ধান কাটছে আবার কেউবা ধানের আঁটি বাঁধছে। আবার কেউ ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে উঠোনে তুলছে। ধান মাড়াই করে শুকিয়ে নিচ্ছেন কৃষাণীরা কিন্তু তাদের চোখে মনে নেই কোন ক্লান্তি, সকলের চোখে মুখেই প্রশান্তির ছবি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যেন নতুন ধানে নতুন স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় পৌরসভাসহ ১০ টি ইউনিয়নে আমন চাষের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছিল ৯৩২০ হেক্টর জমিতে, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০০৮৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান। তবে, এই উপজেলায় সরকারের আমন ধান সংগ্রহের পরিমাণ মাত্র ৫৭ মেট্রিক টন ধার্য করায় এলাকার কৃষকদের মাঝে হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। হাটে-বাজারে আমন ধানের দাম ভালো হওয়ায়, হিসাব কষে এবার লাভের কথাই ভাবছে এলাকার চাষিরা।
উপজেলার পূর্ব এনায়েত এলাকার কৃষক মো. কাইউম বলেন, আমি বিগত বছর দেশি আমন ধানর চাষ করে ভালো ফলন পাইনি কিন্তু এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান, ১০৩ জাতের আমন ধান চাষ করে গত বছরের চেয়ে ভালো ফলন পেয়েছি। তবে বাজারে ধানের দাম একটু কম, সরকার যদি ধানের দামটা বাড়িয়ে দিত তাহলে তাহলে আমাদের উপকার হতো।
কালাই সরদারের চরের কৃষক ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমি শোয়া তিন বিঘা জমিতে ব্রিধান ১০৩ জাতের ধান ও দেশীয় জাতের আমন ধান চাষ করেছি, তবে দেশীয় জাতের চেয়ে ব্রিধান ১০৩ জাতের ধানের ফলন ভালো হয়েছে, ইতোমধ্যে কিছু ধান পেকে গেছে, তাই ধান কাটা শুরু করেছি। নতুন ধান ওঠায় পরিবারের মধ্যে আনন্দের হাওয়া বইছে। বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাবো বলে আশা করি। ধান কেটে আবার সরিষা চাষ করব।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, এ বছর পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে ব্রিধান ১০৩ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এই জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা অনেক ভালো ফলেন পেয়েছে, এই ধান বীজতলা থেকে ১২৭ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে রবি শস্যের জন্য জমি প্রস্তুত করতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, এ বছর কালকিনি উপজেলা কৃষি বিভাগের আওতায় উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ৩শত ২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৮৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এতে সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান। আশা করি আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক ফসল উৎপাদন হবে। উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা সরকারকে জানাবো, যাতে এই উপজেলায় ধান ক্রয় বৃদ্ধ করা হয় এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকেও আমরা অনুরোধ জানাবো যাতে কৃষকরা যেন বাজারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ