
সততা, নিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের দৃপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, সফিপুর, গাজিপুরে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ‘অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬’-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার সকালে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সদস্যদের পেশাগত মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণসহ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও কেপিআইয়ের নিরাপত্তায় প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
প্রত্যাশা পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ সৃষ্টি এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত হবে। সদস্যদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সদস্যদের প্রাপ্য ভাতা আত্মসাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর
তিনি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আজ থেকে তারা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত আনসার। এই পরিচয় তাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নবীন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম স্থান অর্জন করেন কুমিল্লা জেলার কাজী মোঃ আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী জেলার মোঃ ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ি জেলার মোঃ সাবিকুর রহমান। মহাপরিচালক কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করেন এবং বিশেষ অভিনন্দন জানান।
মহাপরিচালক সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, প্রশিক্ষক মণ্ডলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি নবীন সদস্যদের কর্মজীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করেন এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ,আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) মোঃ সাইফুল্লাহ রাসেল,তুরস্ক থেকে আগত প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-প্রশিক্ষকগণ এবং বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা,কর্মচারী,সদস্য-সদস্যাগণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি