সিএন্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত, আটকে আছে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক
আশফাকুর রহমান রাসেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ ৩য় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারলে লোড আনলোড না হওয়ায় কোন গাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় প্রায় ৫০০ পণ্যবাহী ট্র্রাক বন্দরে আটকা পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কমিশনারের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসতে পারে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, তুচ্ছ বিষয়ে অযথা কর্মচারীদের হয়রানি, কোনো কারণ ছাড়াই কার্ড আটকে রাখা, ফাইল জমা দেওয়ার পর নতুন জটিলতা সৃষ্টি এবং আগে না জানিয়ে নতুন নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে নানা সমস্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় অফিসে এসি চালিয়ে রাখার বিষয়টিও তারা হয়রানির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, কোনো আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে পণ্য পরীক্ষা করার নামে কোনো কারণ ছাড়াই সব ট্রাক পানামার ভেতরে নিয়ে আনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত খরচ আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বহন করতে হচ্ছে। অবিলম্বে এসব স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ ব্যাপারে সি এন্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মোহা: মবিন মিয়া ও সদস্য মো: বাইরুল ইসলাম জানান কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবর ৫ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে কমিশনারের প্রতিনিধি জয়েন্ট সেক্রেটারী সহ কাসস্টমসের অন্যান্য কর্মকর্তা সি এন্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিযেশনের সদস্য ও কর্মচারীদের নিয়ে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। শুনেছি তারা রওয়া দিচ্ছেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত আসেননি। তিনি আরো জানান তারা কর্মচারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা না দিলেও তাদের দাবীগুলো যৌক্তিক।সোনামসজিদ পাণামা পোর্টের ম্যানেজার মোহা: মাইনুল ইসলাম বলেন কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।কাস্টমস আলোচনা করার জন্য তাদেরকে ডেকেছিল। কিন্তু তারা কমিশনার বা জয়েন্ট সেক্রেটারী ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজী হননি। কর্মবিরতির কারণে বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৫০০ ট্রাক আটকে আছে। লোড আনলোড না হওয়ায় কোন পণ্য ছাড় পাচ্ছে না। তবে বৃহস্পতিবার বিকারে রাজশাহী থেকে কমিশনারের প্রতিনিধি আসার কথা। তবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত আসেননি।
এব্যাপারে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সহকারী কমিশনার(এসি) মোহা:মাসুদ রানার সাথে মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি