প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ২:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। সাম্প্রতিক নির্বাচনী তিক্ততার পর দুই নেতার এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নির্বাচনে নয় পয়েন্টের ব্যবধানে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই নেতা একে অন্যকে কটাক্ষ করলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মামদানি জানান, বৈঠকে জননিরাপত্তা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দেব-নিউইয়র্কবাসীর উপকারে আসবে এমন যেকোনো ইস্যুতে আমি তার সঙ্গে কাজ করব। আর কোনো এজেন্ডা নিউইয়র্কের ক্ষতি করলে, সেটাও প্রথমে আমিই বলব।”
এর আগে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কমিউনিস্ট মেয়র’ হোয়াইট হাউসে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন এবং ওভাল অফিসেই বৈঠকটি হবে।
নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই ট্রাম্প–মামদানি বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির বিজয়ের পর ট্রাম্প তাকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ভবিষ্যৎ কমিউনিস্ট’ বলে আখ্যা দেন এবং নির্বাচনে জিতলে নিউইয়র্ক সিটির জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল সহায়তা বন্ধ করার হুমকিও দেন।
নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ট্রাম্প নির্বাচনী সমাবেশে মামদানিকে প্রায়ই ‘চরমপন্থি’ এবং “যিনি জীবনে খুব কমই কাজ করেছেন” এভাবে বর্ণনা করতেন।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে অভিবাসন দমন অভিযান জোরদারের মধ্যেও নিউইয়র্ককে “অভিবাসীদের শহর” হিসেবে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মামদানি। এ লক্ষ্যে তিনি অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেছেন এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে