প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪১ পিএম

হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জনপদের মধ্যে ফেনী অন্যতম। এখানে গৌরবগাঁথা অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে আছে। এগুলোরই একটি বিজয় সিংহ দীঘি। ফেনী শহরের দুই কিলোমিটার পশ্চিমে সার্কিট হাউসের পাশে বিজয় সিংহ গ্রামে এটি অবস্থিত। এর তিন দিকে উঁচু পাহাড়ের মতো সবুজ বৃক্ষ ও লতাপাতায় ঘেরা। সমতলে একপাশে গোসল ও ওজু করার ঘাট, মানুষের বসার জায়গা আর সরকারি সার্কিট হাউস।
ফেনী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন বিজয় সিংহ দীঘির আয়তন ৩৭ দশমিক ৫৭ একর। এখানে হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ডুবে থাকা যায়। রোজ বিকেলে প্রশান্তির খোঁজে ভ্রমণপিপাসুরা হাজির হন বিজয় সিংহ দীঘির পাড়ে। এ সময় জমে ওঠে আড্ডা ও বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর কেনাবেচা। রাতে আলোর মেলায় এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
দীঘির পাড়ে বিভিন্ন দিবসে ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড় বাড়ে। উৎসবগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে বেড়াতে আসেন এখানে। তরুণ-তরুণীরা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি আর সেলফি তোলায় মগ্ন থাকে।
শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করছে বিজয় সিংহ দীঘি। তবে এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। অনেকেই এই দীঘিকে প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের অমর কীর্তি মনে করেন। তাদের মতে, ৫০০-৭০০ বছর আগে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন এটি খনন করেন। আবার অনেকে মনে করেন, দীঘিটি খনন করেন স্থানীয় রাজা বিজয় সিংহ। তার নামানুসারেই এর নামকরণ হয়।
কথিত আছে, মাকে খুশি করার জন্য এই সুদীর্ঘ দীঘিটি খনন করেন রাজা বিজয় সিংহ। এতে একসময় সোনা ও রূপার থালা ভেসে উঠতো! একদিন এক ভিখারিনী একটি থালা চুরি করে। তারপর থেকে আর থালা ভেসে ওঠে না।
ফেনীর কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে কমলা সুন্দরীকে জিন দীঘিতে নামিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন। অনেকে মনে করেন, এই দীঘির কথাই রয়েছে উপন্যাসটিতে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত দীঘিটি পুরোপুরিভাবে সেচ করা সম্ভব হয়নি।
এখনও দূর-দূরান্ত থেকে অনেক বিজয় সিংহ দীঘিতে গোসল করতে ও পানি পানের জন্য আসেন। ১৯৯৫ সালে এর চারপাশে বৃক্ষরোপণ করে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। গত বছর দীঘির পাড়ে হাঁটাপথ, আরসিসি গ্যালারি, লাইটিং, সীমানা প্রাচীর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। ফলে এখানকার সৌন্দর্য আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বাসে চড়ে ফেনী মহিপাল নামতে হবে। মহিপাল থেকে রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে সার্কিট হাউস রোড দিয়ে বিজয় সিংহ দীঘি যাওয়া যায়। রিকশায় জনপ্রতি ১০-১৫ টাকা। আর হেঁটে গেলে লাগবে ১০ মিনিট।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএস