
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহমানের পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহীর আইনজীবীরা।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী এডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে আদালত চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্য অংশ নেন। বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের ওপর হামলা নয় এটি দেশের বিচারব্যবস্থা, বিচারকদের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম বলেন, “একজন বিচারকের বাড়িতে এমন নৃশংস হামলা বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমাজ নীরব থাকবে না।” তিনি সব আইনজীবীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিচারক পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, “বিচারকেরা যদি নিরাপদ না হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? পরিকল্পিত এই হামলার দায়ীদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, “এই হামলা হঠাৎ ঘটেনি। দিনের আলোয় হামলাকারী কীভাবে বিচারকের বাসায় ঢুকল—নিরাপত্তায় কোথায় দুর্বলতা ছিল—সেগুলো তদন্ত করা জরুরি।” তিনি দ্রুত বিচার বিভাগের নিরাপত্তা প্রটোকল হালনাগাদ করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে আইনজীবীরা আরও বলেন, বিচার বিভাগকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর বিরুদ্ধে। তাই মামলার তদন্তে যেন গড়িমসি বা অবহেলা না হয়, সে দাবি তোলেন তারা।
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন বলেন, “রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় এত নৃশংস ঘটনা এর আগে ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত, নির্মম ও উদ্বেগজনক।”
আইনজীবীরা বলেন, হামলার তদন্তে ফরেনসিক, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অভিযুক্তের অতীত অপরাধ বা মানসিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন।
১৩ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মো. আব্দুর রহমানের রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার বাসায় ঢুকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তওসিফ রহমান (১৫) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি (৪৪) কে হত্যার চেষ্টা করেন গাইবান্ধার ফুলছড়ির সোলাইমান শহিদের ছেলে লিমন মিয়া (৩৪)।
১৪ নভেম্বর বিচারক নিজেই বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত লিমনকে গ্রেফতার করে। নিহত তওসিফকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার রুদ্রবয়রা গ্রামে দাফন করা হয়।
এ ঘটনার পর বিচার অঙ্গনে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবীরা মনে করেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে বিচার বিভাগের সদস্যরা নিরাপদ বোধ করবেন এবং জনগণের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে