প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ পিএম

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারতের দালাল প্রার্থীদের ভোট দিবেন না।
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য আখতার ইকবাল টিয়া।
বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, “দেশের সামনে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হওয়া জরুরি। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে কারচুপি না করার অঙ্গীকার দিতে হবে। অবাধ নির্বাচন হলে দিল্লির দাদাগিরি ও ষড়যন্ত্র থেমে যাবে।”
জুলাই আন্দোলনের শহীদ আনাসকে স্মরণ করে তরুণদের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, “তারা প্রমাণ করে দিয়েছে ভারত-ঘেঁষা রাজনীতির সুযোগ আর নেই। তরুণদের আত্মত্যাগ যেন ভুলে না যায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। স্বাধীনতার পর দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ভারতীয় প্রভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তরুণরা নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটিয়েছে।”
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং লেখক-অ্যাক্টিভিস্ট বেনজীন খান।
উপাচার্য ড. আব্দুল মজিদ বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে মনে হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের তেজ ও আবেগ আবার জেগে উঠবে।”
সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, “তরুণরা প্রমাণ করেছেন ভারত সম্প্রসারণবাদী শক্তি। ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিষয়ে কঠোর রায় দেবে এবং অতীতের গণহত্যার বিচারও হবে।”
এর আগে দুপুরে ওবায়দুল বারী হলে প্রাচ্যসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মাহমুদুর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “জুলাই সনদ প্রশ্নে সরকার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের দাবি আংশিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”
ভারত প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতের দালালকে যদি পার্লামেন্টে ঢুকতে না দেওয়া যায়, তাহলে এ দেশকে আর কেউ পদানত করতে পারবে না।”