| শিরোনাম: |

কাজের প্রয়োজনে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন বাপি মণ্ডল। সংসারের টাকা পৌঁছে দিতে তিনি ভরসা করতেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু জিৎ-এর ওপর। কিন্তু সেই বিশ্বাসই ভেঙে যায়—কারণ জিৎ পরকীয়ায় জড়ান বাপির স্ত্রী সঞ্চারীর সঙ্গে।
গত সোমবার সাঁইথিয়ার বাইপাসে সঞ্চারী ও জিৎ-কে একই মোটরসাইকেলে দেখে ফেলেন বাপি। এরপর তিনি দুজনকে নিয়ে যান সাঁইথিয়ার সতীপীঠ নন্দিকেশ্বরীতলায় এবং সবার সামনে সঞ্চারীর সঙ্গে জিতের বিয়ে দেন। সাত বছরের সন্তানকে তবে নিজের কাছেই রাখেন তিনি।
নবদম্পতির সামনে দাঁড়িয়ে বাপির মন্তব্য—“আজ থেকে আমি মুক্ত। আমার বউ এখন বন্ধুর বউ। তার ভরণপোষণের দায়িত্বও এখন বন্ধুর।”
নয় বছর আগে বাপি ও সঞ্চারীর বিয়ে হয়। বাপির বন্ধু জিৎ নিয়মিত টাকা দিতে সঞ্চারীর কাছে যেতেন। সেই সময়েই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অন্যদিকে সঞ্চারী বাপির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন, যা এখনও আদালতে বিচারাধীন। এ কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই বাবার বাড়িতে ছিলেন।
ঘটনার দিন বাপি শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন, কিন্তু সঞ্চারীর মা জানান—মেয়ে স্বাধীন, সে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। এরপরই বাপি জিতের ওপর নজরদারি শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত দুজনকে একসঙ্গে দেখে সিদ্ধান্ত নেন মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার।
বিয়ে নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও জিৎ বলেন, “আট-নয় মাস ধরে আমাদের প্রেম গভীর হয়েছে। বিয়ে করব ঠিক করেছিলাম, কিন্তু বন্ধুকে বলতে পারছিলাম না। যা হলো, ভালোই হলো।”
বাপির আশা—এখন যেহেতু সঞ্চারী নতুন সংসার শুরু করেছে, আদালতে চলমান মামলা হয়তো তুলে নেবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ