
আখাউড়ায় কলা চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষের এক নীরব বিপ্লব ঘটছে। স্থানীয় বাজারে কলার চাহিদা ও বিক্রিতে দর ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। এ চাষে খরচ কম, ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানকার উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে।
একাধিক কৃষক জানান, কলা একটি লাভজনক ফসল। বছরের যে কোনো সময় কলা চারা রোপণ করা যায়। চারা দ্রুত বেড়ে ওঠে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম থাকে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে না। একবার চারা রোপণ করলে তা থেকে কয়েক মৌসুম ফলন পাওয়া যায় এবং উৎপাদন খরচও কম হয়। কৃষি অফিসের সহায়তায় স্থানীয় কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কলা চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। এখানে অনুপম, সাগর, চিনিচম্পা, উন্নত জাতের কাঁচকলা, আনাজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির কলা কমবেশি রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ জমিতে রয়েছে চিনিচম্পা, সবরি ও কাঁচকলা। যে সব জমিতে পানি জমে না, সে সব জমিতে কলা চাষ ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে কলা চাষের জন্য জাতভেদে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ কলা চারা রোপণ করা যায়। ধান, পাট ও আখসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে শ্রম ব্যয় কম হয়। বিক্রিতে ও নেই কোনো ঝামেলা; বেশির ভাগ বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়। বিক্রিতে দর ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুবই খুশি।
সরেজমিনে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়, রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, খোলা জায়গায় শুধু কলাগাছ আর কলাগাছ চোখে পড়ছে। প্রতিটি বাগানে সকাল থেকেই পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
কৃষক মো. মুর্শেদ মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ফল-ফলাদি চাষের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ। জায়গা কম থাকায় ভালো করে আবাদ করতে পারছি না। চার বছর আগে বাড়ি সংলগ্ন ১ বিঘা জায়গা ক্রয় করেছি। এরপর জায়গাটিতে মাটি ফেলে সবজি চাষের উপযোগী করি। কৃষি অফিসের পরামর্শে সবজির পাশাপাশি অন্তত ৭০টিরও বেশি কলা চারা রোপণ করি। বছর খানেকের মধ্যেই রোপণকৃত গাছে ভালো ফলন আসতে থাকে। ফলন দেখে মনটা ভরে যায়। নিজের চাহিদা মিটিয়ে কলা বিক্রি করে বছরে ২০ হাজার টাকারও বেশি আয় হচ্ছে। আমার কলা চাষে সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষক কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষক আবেদ আলী বলেন, শখের বসে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড়ে অর্ধশতাধিক কলা চারা রোপণ করি। এ চাষ করতে চারা, সার, শ্রম ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। কলা বিক্রি করে প্রথম বছরই ৭ হাজার টাকা আয় হয়। গাছের ফলনের যে অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে এ বছর ১০ হাজার টাকারও বেশি আয় হবে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ কলা পাইকাররা এসে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। নিজেরা বিক্রি করতে পারলে আরও বেশি আয় হতো।
তিনি আরও বলেন, কলা চাষ করলে বিক্রির পাশাপাশি কলাগাছের চারাও বিক্রি করা যায়। কলা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ একটি ফসল। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম হয়। অন্য ফসলের মতো একসঙ্গে গাছে ফলন আসে না। বছরের বেশির ভাগ সময় কোনো না কোনো গাছে ফলন থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে না, বরং লাভবান হওয়া যায়।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বছরে এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এটি একটি লাভজনক কৃষি ফসল। কলা চাষে ফলন বৃদ্ধিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।