প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৮ AM

সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।
গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গত সোমবার (১০ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণের তিনদিন পর অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে হামলার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দেশবিরোধী শক্তির পরিকল্পিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে ভারত।” এতে ঘটনাটিকে “রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির পরিচালিত নৃশংস ও কাপুরুষোচিত কাজ” হিসেবে অভিহিত করা হয়।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈঠকে বলেন, “এই হামলায় নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির নৃশংসতার প্রমাণ।”
প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এদিকে দিল্লি বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুম্বাই থেকে বারাণসীগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর বিমানটি জরুরি অবতরণ করে বারাণসী বিমানবন্দরে। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় ১৭৬ যাত্রীকে।
এছাড়া পাঞ্জাব প্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আদালত, বিচারকদের বাসভবন ও চীনা প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। আদালত কমপ্লেক্সের ছাদে স্নাইপার বসানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিচারক ও আইনজীবীদের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল ও মেডিকেল রেসপন্স ইউনিটও রাখা হচ্ছে।