প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:০১ পিএম

মস্তিষ্ক ছাড়াই জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের তরুণী অ্যালেক্স সিম্পসন চিকিৎসকদের সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে উদযাপন করেছেন নিজের ২০তম জন্মদিন। গত ৪ নভেম্বর ২০ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। জন্মের পর চিকিৎসকরা তাঁর বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন—অ্যালেক্স চার বছরের বেশি বাঁচবেন না। কারণ তিনি জন্মেছিলেন ‘হাইড্রানেনসেফালি’ নামের এক বিরল স্নায়বিক রোগ নিয়ে, যেখানে মস্তিষ্ক প্রায় অনুপস্থিত থাকে।
হাইড্রানেনসেফালি একটি অত্যন্ত বিরল ও গুরুতর স্নায়বিক ব্যাধি। এই রোগে মস্তিষ্কের দুই অর্ধগোলক আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত থাকে, এবং সেই স্থানটি ভরে যায় সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডে (মস্তিষ্ক-মেরুদণ্ডীয় তরল)। সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যায়। তাই অ্যালেক্সের ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা চিকিৎসকদের কাছে এক “মেডিকেল মিরাকল” বা চিকিৎসা-বিজ্ঞানের বিস্ময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যালেক্সের বাবা শন সিম্পসন বলেন, “এই রোগের মানে হলো—তার মস্তিষ্ক নেই। এমনকি অর্ধেকও নয়, পুরো মস্তিষ্কই অনুপস্থিত। কেবল সেরিবেলাম অংশের আকার আমার কনিষ্ঠ আঙুলের অর্ধেকের মতো।”
হাইড্রানেনসেফালির কারণে অ্যালেক্সের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি নেই। তবুও তাঁর পরিবার বিশ্বাস করে, অ্যালেক্স আশপাশের মানুষের উপস্থিতি ও অনুভূতি টের পান। অ্যালেক্সের ছোট ভাই এসজে বলেন, “অ্যালেক্সের পাশে কেউ দুশ্চিন্তায় থাকলে, কোনো কথা না বললেও ও সেটা বুঝে ফেলে। এমনকি দাদির ব্যথা থাকলেও ও বুঝে যায়।”
চিকিৎসকরা বলেছিলেন, অ্যালেক্স চার বছর বয়সের গণ্ডি পেরোতে পারবেন না। কিন্তু আজ তিনি জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করেছেন। তাঁর বাবা শনের ভাষায়, “২০ বছর আগে আমরা অত্যন্ত ভয়ে ছিলাম। কিন্তু এতদূর আসা সম্ভব হয়েছে আমরা বিশ্বাস রেখেছি বলেই।।”
সূত্র: এনডিটিভি, নিউইয়র্ক পোস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ