
প্রতীকী ছবি
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখনও সীমান্তে সরাসরি গোলাগুলি শুরু না হলেও কথার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন আফগানিস্তানের উপজাতি ও সীমান্ত মন্ত্রী নুরুল্লাহ নুরি।
শনিবার (৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ১৮।
গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নতুন করে বৈঠকে বসেন পাক-আফগান প্রতিনিধিরা। গতকাল শুক্রবারও আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। তবে, শনিবার জানা যায় এই আলোচনা ব্যর্থ হয়ে গেছে। এতে আবারও নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান যদি আফগানিস্তানে কোনো হামলা চালায় এবং এর ফলে যদি যুদ্ধ বাঁধে তাহলে পাকিস্তানকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আফগানিস্তানের উপজাতি ও সীমান্ত মন্ত্রী নুরুল্লাহ নুরি।
তিনি বলেছেন, আফগানদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেবেন না। যদি যুদ্ধ বাঁধে আফগানিস্তানের বৃদ্ধ-যুবক; সবাই লড়াইয়ে নামবে।
এর আগে, আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, শান্তি আলোচনা নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে ‘সিরিয়াসনেসের অভাব’ রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানকে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন জাবিহুল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহ ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় আফগানিস্তান তার ভৌগলিক অখণ্ডতা অক্ষুন্ন রাখবে।
তালেবান সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুদ্ধবিরতি অক্ষুন্ন থাকবে। অলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পাকিস্তানের ‘অসহযোগিতামূলক এবং দায়িত্বহীনতাকে’ দায়ী করেছে তারা।
টানা কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গত ১৯ অক্টোবর কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকে বসে দুই দেশের সরকার। এরপর ওইদিনই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তারা।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দায় পাকিস্তানের উপর চাপিয়েছে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, আলোচনার সময় পাকিস্তানি পক্ষ তাদের সব নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগানিস্তান সরকারের উপর চাপাতে চেয়েছিল, অথচ নিজেদের বা আফগানিস্তানের নিরাপত্তার কোনো দায়িত্ব নিতে তারা ইচ্ছা দেখায়নি।
মুজাহিদ আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অসহযোগিতামূলক ও দায়িত্বহীন আচরণের কারণে আলোচনায় কোনো ফলাফল আসেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ