প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৯ AM

প্রতীকী ছবি
মধ্য এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশ কাজাখস্তান দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এ তথ্য গতকাল শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কাজাখ সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা আব্রাহাম চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে আরব মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক স্থাপন। তবে এবার কাজাখস্তানের মতো একটি ‘অ-আরব’ মুসলিম দেশকে যুক্ত করার উদ্যোগে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
যাত্রা শুরুর বছরে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদান। যদিও চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনও দেয়নি সুদান সরকার। এ অবস্থায় আরব দেশের বদলে মধ্য এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাজাখস্তানকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করার মার্কিন প্রয়াসকে বাঁকা চোখে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সমালোচকরা বলছেন, কাজাখস্তানের সঙ্গে ১৯৯০ দশক থেকেই সম্পর্ক আছে ইসরায়েলের। একে-অপরের সঙ্গে সবধরনের বাণিজ্য করে দেশ দুটি। ফলে নতুন করে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজাখস্তানের যোগ দেওয়ার কিছু নেই।
এদিকে, আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরের খবরে কাজাখস্তানকে ‘ব্যবহৃত মাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সাবেক নেতা ও লিডারশিপ কমিটির সদস্য হানান আশরাই। তিনি বলেন, আবারও ইতিহাস নতুন করে লেখা হচ্ছে এবং তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে। কাজাখস্তান কোনো আরব দেশ নয় এবং ১৯৯০ দশক থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। কাজাখস্তান একটা ব্যবহৃত মাল।
আব্রাহাম চুক্তিতে কাজাখস্তানকে যুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথও। তার মতে আরব দেশগুলো ইসরায়েল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এখন আব্রাহাম চুক্তিতে কাজাখস্তানের মতো অ-আরব দেশকে যুক্ত করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাধা দেওয়া সত্ত্বেও আব্রাহাম চুক্তিকে শক্তিশালী করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে কাজাখস্তানের মতো দূরের জায়গায় যেতে হয়েছে, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের ১৯৯২ সাল থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় বর্বরতার কারণে আরব দেশগুলো ইসরায়েলের প্রতি সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত হয়ে যাওয়ায় দখলদার দেশটি নিজেকে পুনরায় শান্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছে। এজন্যই তারা পূর্বে সম্পর্ক থাকা কাজাখস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ