প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১৮ AM

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে টাইফুন কালমেগি। ফিলিপাইনে তাণ্ডবে অন্তত ১১৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর বৃহস্পতিবার এটি ভিয়েতনামে ১৪৯ কিমি বেগে প্রবেশ করে। টাইফুনটি বর্তমানে কম্বোডিয়া ও লাওসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভিয়েতনামের ডাক লাখ প্রদেশে একটি বাড়ি ধসে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মধ্য ভিয়েতনাম ইতোমধ্যেই টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ছিল, যেখানে গত সপ্তাহে প্রায় ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী টাইফুনের আগেই বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেয়। প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার সৈন্য ও কর্মী, ৬,৭০০ যানবাহন এবং ৬টি বিমান মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ও মহাসড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা স্থানীয় সময় ১৯:২৯ মিনিটে টাইফুন ভিয়েতনামের স্থলভাগে প্রবেশ করে। ডাক লাখ প্রদেশের শত শত বাসিন্দা ঘরবাড়ি ধসে পড়া ও বন্যার কারণে সাহায্যের জন্য ফোন করেন। ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাতটি প্রদেশ ও শহরের শত শত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি প্রদেশে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, হোটেলের কাচ ভেঙে পড়েছে এবং গাছপালা উপড়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিঙ জরুরি সভা করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি বলেছেন, বিচ্ছিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছে সবাইকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করতে হবে।
থাইল্যান্ডও টাইফুন কালমেগির প্রভাবে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানি উপচে পড়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।