প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০০ পিএম আপডেট: ০৬.১১.২০২৫ ৮:০৯ PM

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক উমেদার (এমএলএসএস) আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ আরও চারজনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (৬নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মো. আনিসুর রহমান (৬২), সালেহা বেগম ও জেসমিন নাহার। এর মধ্যে জেসমিন নাহার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান তালুকদারের স্ত্রী।
তদন্তে জানা যায়, বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থের একটি বড় অংশ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে চাকরি করেন আবদুল মান্নান তালুকদার। অবসর গ্রহণের পর তিনি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ শ্লোগানে ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন; যা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে নিবন্ধিত হলেও ব্যবসার কার্যক্রম ছিল কয়েকজন ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এইভাবে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
সিআইডির তদন্তে আরও জানা গেছে, সংগৃহীত টাকার মধ্যে ৬৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ মান্নানের মালিকানাধীন সাবিল গ্রুপের সহযোগী ছয়টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, এ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা), সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বাগেরহাট), সাবিল জেনারেল হাসপাতাল (পিরোজপুর), সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (বাগেরহাট), সাবিল প্লাজা ও সাবিল মৎস্য প্রকল্প (বাগেরহাট)। বাকি অর্থ বিভিন্ন নামে-বেনামে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।
সিআইডি আরও জানান, মামলার তদন্তে অর্থের প্রকৃত প্রবাহ, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস শনাক্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান চলমান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস