প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৫১ পিএম

বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মহাপিন্ড দান সম্পন্ন
বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মহাপিন্ড দান উৎসব।
আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে বান্দরবান রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার থেকে প্রায় তিন শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুর একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পিণ্ড গ্রহণ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভিক্ষুদের পিণ্ড দান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস মং। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় ভিক্ষুদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নগদ অর্থ, চাল, ফল, মিষ্টি, মোমবাতি, আগরবাতিসহ বিভিন্ন উপকরণ দান করা হয়।
কঠিন চীবর দান উৎসব শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানে রান্না করা খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এ মহাপিন্ড দান উৎসবের আয়োজন করা হয়। পূণ্য অর্জনের আশায় শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভিক্ষুদের পিণ্ডদান করেন। উৎসব উপভোগ করতে বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে বান্দরবানে।
ধর্মীয় নেতারা জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ভিক্ষুরা মন্দিরে বর্ষাবাস পালন করেন। বর্ষাবাস শেষে কঠিন চীবর দান উৎসবের পর মহাপিন্ড দান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচলিত আছে, গৌতম বুদ্ধ নিজে খালি পায়ে বিভিন্ন পল্লীতে ঘুরে ছোয়াং (খাবার) সংগ্রহ করতেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের বৌদ্ধ সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই উৎসব পালন করে আসছে।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারীরা চরকা ঘুরিয়ে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে, সেই সুতায় রঙ লাগিয়ে কাপড় বুনে ভিক্ষুদের জন্য চীবর তৈরি করেন। এক রাতের মধ্যেই সম্পন্ন করা এই দান প্রক্রিয়াকেই বলা হয় ‘কঠিন চীবর দান’।