প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:১১ পিএম

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বিল্ডিং নির্মাণ নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ বহিরাগত লোক এনে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করার চেষ্টা করলে, বহিরাগত সন্ত্রাস এসেছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করলে গ্রামবাসী এসে ৪ মোটরসাইকেলসহ ৮ যুবককে আটক করে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত খলিল মিয়ার বাড়িতে।
খবর পেয়ে তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: খালেদ সাইফুল্লাহ সংঙ্গীয় অফিসার্স ও ফোর্স নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং গ্রামবাসীর হাতে আটককৃত ৪ মোটরসাইকেলসহ ৮ যুবকে থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন, দাউদকান্দি উপজেলার ইছাপুর গ্রামের ছিদ্দিকুর দেওয়ানের ছেলে সাইমন দেওয়ান (২৩), তাহের খানের ছেলে মাছুম খান (২৩), হোসেনের ছেলে মোঃ নয়ন (২১), বুলবুল আনন্দের ছেলে মোঃ বাপ্পি (২২), রনির ছেলে মোঃ রিয়াদ (২১), খোরশেদ আলমের ছেলে নাঈম আহম্মেদ (২৩), মোর্শেদের ছেলে তানভীর হাসান (২১) ও হাসানপুর গ্রামের বশির আহম্মেদ সরকারের ছেলে মাহি সরকার (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত মতি মিয়া বেপারীর ছেলে মনির মিয়া ও একই বাড়ির মৃত খলিল মিয়ার ছেলে নুরু মিয়ার মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। সম্প্রতি মনির মিয়া ঐ বিরোধপূর্ণ জায়গায় বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে প্রতিবেশী নুরু মিয়া আপত্তি জানিয়ে গ্রামবাসীর নিকট অভিযোগ জানালে গ্রামের পঞ্চায়েত মিলে মনিরকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেন। কিন্তু মনির মিয়া পঞ্চায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই গত ৩ নভেম্বর সোমবার বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করার চেষ্টা করেন। এসময় নুরু মিয়া বাধা দিলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করার চেষ্টা করলে, তিনি দৌড়ে বাড়ির পাশে দোকানে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে জানালে, “বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আসছে” বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসী ছুটে এসে ৪টি মোটরসাইকেলসহ ৮ যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
এবিষয়ে গ্রামের পঞ্চায়েত মুছা জমদার ও কাশেম মেম্বার বলেন, আমরা গ্রামের সকল সাহেব সর্দার মিলে মনির মিয়াকে বলেছি সঠিক পরিমাপ করে বিল্ডিংয়ের নির্মাণ করার জন্য। কিন্তু সে পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করতে চায়। এসময় প্রতিপক্ষ নুরু মিয়া বাঁধা দিলে তাকে মারধর করার চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার করে বাড়ির পাশে দোকানে গিয়ে বলে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা তাকে মারতে আসছে, তখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা করলে স্থানীয়রা এসে ৪টি মোটরসাইকেলসহ বহিরাগত ৮ যুবককে আটক করে পুলিশের নিকট সোর্পদ করে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে আমি নিজে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। গ্রামবাসীর হাতে আটককৃত ৮ যুবক ও তাদের ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসি। মঙ্গলবার সকালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ