
গজারিয়ায় দুই রাতে দুই বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দুটি এলাকায় পরপর দুই রাতে দুটি দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার কারণে এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও ডাকাত আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, ভবেরচর ইউনিয়নের সাতকাহনিয়া গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের বাড়ির পাকা ভবনের গ্রীল কেটে ভবনে প্রবেশ করে গৃহকর্তাকে বেধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতরা কক্ষে রক্ষিত ২০ থেকে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রীসহ আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে অস্ত্রসজ্জিত ১৫ থেকে ২০ জনের একদল ডাকাত তাদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাত আক্রান্ত ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের পরিবারের একাধিক সদস্য ডাকাতির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
পক্ষান্তরে, গত রোববার দিবাগত মধ্যরাতে একই উপজেলার বালুয়াকান্দী এলাকায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ফজলুল হকের বাড়িতেও দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রোববার দিবাগত গভীর রাতে অস্ত্রসজ্জিত একদল ডাকাত জানালার গ্রীল কেটে ভবনে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।
প্রাক্তন সেনাসদস্য ফজলুল হকের মেয়ে সাথী বেগম বলেন, “রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুত নামাজ আদায় করার সময় বাড়ির পাকা ভবনের গ্রীল কেটে দুই যুবক ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে আমাকে, পরে আমার ছেলে সাবিদকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একে একে ভবনের চারটি ফ্ল্যাটের প্রত্যেকটিতে ডাকাতি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও দামী মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার সম্পদ লুটে নেয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ডাকাতির পর আমাদেরকে ভবনের একটি কক্ষে রেখে দরজার বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে যায়।”
সাথী বেগমের ছেলে সাবিদ বলেন, “ডাকাত দলের দুই সদস্য কাটার দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করার পর ডাকাত দলের আরও ১৪ থেকে ১৬ জন সদস্য ভবনের কক্ষে প্রবেশ করে। বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল। ডাকাত দলের অধিকাংশ সদস্যের মুখে মাস্ক ও গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে দিয়েই অন্যান্য ফ্ল্যাটের দরজা খোলাতে বাধ্য করে।”
বাড়ির প্রধান ব্যক্তি প্রাক্তন সেনা সদস্য ফজলুল হক বলেন, “আমার তিন ছেলে প্রবাসী। তাদের পাঠানো প্রায় ৩২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, কয়েকদিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৯টি মোবাইলফোন সেট লুট করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রতিবেশী মো: লাখ মিয়া বলেন, “আমরা ভোর ৫টার দিকে বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে পরিবারের জিম্মি করা সদস্যদের মুক্ত করি।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভবেরচর এলাকার সাতকাহনিয়া গ্রামে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে। বালুয়াকান্দী এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় মামলা রুজু হওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “আজ মঙ্গলবার বিকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ডাকাতি সংঘটিত হওয়া দুটি বাড়ি পরিদর্শন করবেন।”
এদিকে, পরপর দুটি বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি এবং আনুমানিক কোটি টাকার অধিক সমমূল্যের মালপত্র অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে লুটের ঘটনায় এলাকার মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।