প্রকাশ: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৬ পিএম আপডেট: ০২.১১.২০২৫ ৯:০১ PM

নবীনগরে হোটেলে ঢুকে গুলিবর্ষণে আরেক জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত ইয়াছিন নামে আরও একজন যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক শিক্ষকসহ গুলিবিদ্ধ দুজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ রবিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত ইয়াছিন মিয়া (৩০) উপজেলার আলমনগর গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ শিপন মিয়া (৩০) নামে যুবকের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর গ্রামে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি গণি শাহ মাজার বাজারে স্থানীয় একটি হোটেলে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এলাকার কুখ্যাত ডাকাত মুন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০) আড্ডা দিচ্ছিল। আচমকা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোটেলটিতে গুলি করতে করতে ঢুকে। সেসময় শিপন মিয়া (৩০) এবং হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হয়। গুলির আওয়াজে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মনেকের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় গণিশাহ মাজারের অদূরে তালতলায় গিয়ে স্থানীয় এমরান হোসেন মাস্টারের অফিসে হামলা চালায়। মনেকের সশস্ত্র লোকজনের ছোঁড়া গুলিতে এমরান মাস্টার (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। এমররান মাস্টারের বাড়ি বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে। তিনি শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এমরান মাষ্টার গত উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বিতা করেন। বিক্ষুব্ধ সশস্ত্র লোকজন এরপর থোল্লাকান্দি গ্রামে হামলা চালিয়ে একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মনেক ডাকাত ও তার ছেলে শিপনের পুরো এলাকায় একক আধিপত্য ছিল। সেই আধিপত্য নিয়েই থোল্লাকান্দি গ্রামের মিষ্টারের ছেলে আরাফাতের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মনেক ডাকাতের ছেলে শিপনকে শনিবার রাতে গুলি করে। পাল্টাপাল্টি এ গুলাগুলি ঘটনার পর পুনরায় সংঘর্ষ ও হামলার ভয়ে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, পূর্বশত্রুতাসহ আধিপত্য বিস্তারের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শিপন সকালে ও ইয়াছিন বিকেলে মারা যান।