প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:০২ পিএম

সংগৃহীত ছবি
গতকাল শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-২এফ রকেটের মাধ্যমে চীনের শেনঝো-২১ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এতে চীনের নভোচারী দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যসহ পুরো ক্রু অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শেনঝো-২১ মিশন স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৫৪৪) জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
২০২২ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর থেকে এটি চীনা মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠানোর সপ্তম মিশন। শেনঝো-২১ মিশনে তিনজন নভোচারী ছয় মাসের জন্য মহাকাশে অবস্থান করবেন। এই মিশনে অভিজ্ঞ নভোচারীদের ধীরে ধীরে তরুণ সদস্যরা প্রতিস্থাপন করবেন। প্রথমবারের মতো মহাকাশ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী ঝাং হংঝাং এবং ৩২ বছর বয়সী উ ফেই, যিনি চীনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী। দুজনই ২০২০ সালে এই প্রোগ্রামে নির্বাচিত হন।
মহাকাশ স্টেশনে প্রথম ছোট প্রাণী
শেনঝো-২১ দলের নভোচারীরা শেনঝো-২০ ক্রুর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা ছয় মাসেরও বেশি সময় মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং’ বা ‘হ্যাভেনলি প্যালেস’-এ বসবাস ও কাজ করবেন। শেনঝো-২০ দলের নভোচারীরা কয়েক দিনের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
শেনঝো-২১ ক্রুর সঙ্গে ছিল চারটি কালো ইঁদুর, যা চীনা মহাকাশে পাঠানো প্রথম ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর মধ্যে দুটি পুরুষ এবং দুটি নারী। তাদের দিয়ে মহাকাশে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানো হবে।
শেনঝো কর্মসূচিতে এখন বছরে দুইবার উৎক্ষেপণ নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত এক বছরে এই কর্মসূচি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
এতে রয়েছে ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া চীনা নভোচারীদের প্রথম মহাকাশযাত্রা, বিশ্ব রেকর্ড স্থাপনকারী স্পেসওয়াক এবং আগামী বছর পাকিস্তান থেকে প্রথম বিদেশি নভোচারীকে তিয়ানগং স্টেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা।
চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়াশিংটনে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে নভোচারী পাঠানোর জন্য তৎপর। এছাড়া, উভয় দেশই নতুন মহাকাশ সহযোগিতা কাঠামো গঠনের প্রতিযোগিতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’ চন্দ্র অনুসন্ধান কর্মসূচির মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশন’ প্রকল্পে কাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স