প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১২ পিএম আপডেট: ০১.১১.২০২৫ ১২:১৫ PM

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ভানু বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নয় মাসের নাতি আরিয়ান হাসানকে নিয়ে হতাশায় রয়েছেন। তিনি উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মৃত মো: শাজাহান সরদারের স্ত্রী।
তিন বছর পূর্বে গাজীপুরের হোতাপাড়া ভবানীপুরের মোঃ জাকির শেখের ছেলে মোঃ জায়েদুল শেখ এর সাথে ভানু বেগমের কন্যা আমেনা আক্তারের বিবাহ হয়। বিবাহের পরে তাঁদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। বছর দুই গড়াতেই তাদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তানের। নাম রাখেন আরিয়ান হাসান। যার বর্তমান বয়স ৯ মাস।
কিন্তু ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় আমেনা আক্তারকে। গোপনে আরেকটি নারীকে বিবাহ করে জায়েদুল শেখ। কৌশলে সন্তানসহ স্ত্রী আমেনা আক্তারকে কাকড়াবুনিয়ায় ভানু বেগমের কাছে রেখে যায়। পেটের দায়ে আমেনা আক্তার পাড়ি জমায় রাজধানী ঢাকায়। অপারেটরের সহযোগী হিসেবে কাজ নেয় পোশাক কারখানায়। আরিয়ানকে রেখে যায় নানির কাছে।
ভানু বেগম জানান, তিনি নয় মাসের শিশুটিকে নিয়ে চরম বিপাকে আছেন। তাঁর কন্যা আমেনা আক্তার কাজ করে যে বেতন পান নিজে চলতে পারেন না। আরিয়ান বর্তমানে খুব অসুস্থ। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার মত টাকাও তাঁর কাছে নেই। এই বৃদ্ধ বয়সে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে অনেক কষ্ট হয়।
কেঁদে কেঁদে আক্ষেপ করে ভানু বেগম জানান, স্বামী নেই, বিভিন্ন জাগায় হাত পেতে খাই, সরকারি ঘরে থাকি। খয়রাত করে খাইলেও আমি কোনো সরকারি বিধবা ভাতা, বয়স্কো ভাতা বা কোনো চালের ভাতা পাই না।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভানু বেগমকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে যেন, তিনি একটি আবেদন করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএস