প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০০ পিএম আপডেট: ২৮.১০.২০২৫ ৩:০৪ PM

ভারতের অরুণাচল সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের লুনজে বিমানঘাঁটিতে নতুন করে ৩৬টি শক্তিশালী বিমান বাংকার, প্রশাসনিক ভবন ও একটি নতুন অ্যাপ্রন নির্মাণ করেছে চীন। এই বাংকারগুলো এমনভাবে নির্মিত যে, মিসাইল হামলার সময়ও যুদ্ধবিমানগুলো সুরক্ষিত থাকবে। ফলে ভারতের জন্য বিষয়টি নতুন কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
লুনজে ঘাঁটি অরুণাচলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাওয়াং থেকে মাত্র ১০৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—যা কয়েক মিনিটের ফ্লাইট দূরত্ব। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি ও প্রধান শহরগুলোও এখন চীনের এই ঘাঁটির আওতায় চলে এসেছে। এর ফলে ওই অঞ্চল থেকে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন পরিচালনা আরও সহজ এবং শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুনজে ঘাঁটি থেকে অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের ভারতীয় বিমান ঘাঁটিগুলোও সরাসরি নজরদারির আওতায় আসবে। এতে করে যেকোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে চীন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বি.এস. ধানোয়া বলেন, এই বাংকার নির্মাণ চীনের ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তার মতে, ঘাঁটির ভেতরে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে গোলাবারুদ ও জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী।
এয়ার মার্শাল অনিল খোসলা, যিনি ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক ভাইস চিফ, জানিয়েছেন—এই ঘাঁটিগুলোর সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে চীনের যুদ্ধ পরিকল্পনারই অংশ। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এগুলো ভারতের জন্য গুরুতর কৌশলগত হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, এসব বাংকার ভারতীয় বিমান বা মিসাইল হামলা থেকে সহজে রক্ষা পাবে, যা সংঘাতের সময় এগুলো ধ্বংস করা কঠিন করে তুলবে।
ভূ-গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমন বলেন, তাওয়াং সেক্টরের বিপরীতে চীনের এই বিমান বাংকারগুলো নির্মাণ করা আসলে ওই সংবেদনশীল অঞ্চলে তাদের বিমানশক্তি বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বহন করছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও অন্তত ৪ জন চীনা সেনা নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশ সীমান্তে বিপুল সেনা, ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ