প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

রাজশাহী শহরে ওয়াসার পাম্প ঘরগুলোতে বৈদ্যুতিক তার চুরির হিড়িক পড়েছে। এতে পাম্পগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে শহরের একাধিক এলাকায় হঠাৎ থেমে যাচ্ছে পানি সরবরাহ। যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ১২৩টি পাম্পঘর রয়েছে। এসব পাম্প থেকেই ভূগর্ভস্থ পানি তুলে শহরবাসীর কাছে সরবরাহ করা হয়। আগে বছরে এক-দুটি পাম্প ঘরে চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই চোরচক্র সাবমারসিবল ও টেন-আরএম ধরনের দামি বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে চিঠি দিয়ে ১২৩টি পাম্পের তালিকাসহ রাত্রিকালীন পুলিশ টহল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে ওয়াসা। কিন্তু সেই রাতেই নগরের কাজলা ও খোজাপুর গোরস্থানসংলগ্ন দুটি পাম্প ঘর থেকে পুনরায় তার চুরি হয়।
এর আগে ১১ অক্টোবর বুধপাড়া বাইপাস, ১৬ অক্টোবর দায়রাপাক মোড়, ১৯ অক্টোবর খলিল সরকারের মোড় এবং শারীরিক শিক্ষা কলেজের পাম্প ঘরে একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খলিল সরকারের মোড় পাম্পের অপারেটর মো. চাঁদ বলেন, রোববার রাতে তার চুরি হওয়ার পর থেকে পাম্প বন্ধ। নতুন তার লাগানো না হলে পানিসরবরাহ বন্ধই থাকে।
খোজাপুর গোরস্থানের পাম্পে মেরামতের কাজ করা মিস্ত্রি জয়নাল আবেদিন বলেন, দামি এই তারগুলো মাদকাসক্তরা কেটে নিয়ে কেজি দরে বিক্রি করে বলে ধারণা। এখন চুরি প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল ইসলাম বলেন, রাতে তার চুরির পর থেকেই পানি বন্ধ। দুপুর গড়িয়ে গেল, তবু পাম্প চালু হয়নি। পুরো এলাকা পানির কষ্টে আছে।
ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) তৌহিদুর রহমান বলেন, রাতে পাম্প চলে না, অপারেটর থাকেন না। নৈশপ্রহরীও নেই তাই চোরদের সহজ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আমরা পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছি ও থানায় অভিযোগ করেছি।
আরএমপি মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, পাম্পগুলো অনেক সময় অরক্ষিত থাকে। এগুলো রক্ষায় ওয়াসারও দায়িত্ব রয়েছে। তবে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে এবং ওয়াসার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/রাফি