
তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়েছে গবেষণামূলক প্রতিযোগিতা ‘ইউরেকা সিজন-১’। গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) কুয়েট রিসার্চ সোসাইটি (কেআরএস) আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ ছিল—‘টেকনিক্যাল রাইটিং’ এবং ‘থ্রি মিনিট থিসিস’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক। তিনি বলেন, “দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর, এমনকি বুয়েটের পরীক্ষাগার থেকেও ক্যাবল টেস্টিং সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। তাই মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করা এখন জরুরি।”
প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া থিসিস অ্যাবস্ট্রাক্ট থেকে প্রাথমিকভাবে ৭০টি নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মেকানিক্যাল, সিভিল ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায় থেকে মোট ১২ জন ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হন।
‘থ্রি মিনিট থিসিস’-এর বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন— ফারদিন ইসলাম (স্থাপত্য বিভাগ, সিভিল অনুষদ, ২কে১৮), সরাত জাহান নাবিলা (আইইএম বিভাগ, মেকানিক্যাল অনুষদ, ২কে১৯), ‘থিসিস অভ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেছেন, পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে মোহাম্মদ আবির রহমান (সিএসই বিভাগ, ২কে২০)।
টেকনিক্যাল রাইটিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন: উদিতা রহমান আরশি (ইসিই বিভাগ, ২কে২০), প্রথম রানার-আপ: “টিম কোয়ান্টাম স্পার্কস”—ধ্রুব জ্যোতি দাস ও মো. সামিউল ইসলাম (উভয়েই ইইই, ২কে২২), দ্বিতীয় রানার-আপ: সৈয়দ রিয়াজ মাহমুদ (বিইসিএম বিভাগ, ২কে২০)।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, গবেষণার সাফল্য তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করা যায়।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ বায়োরিফাইনারি অ্যান্ড বায়োক্রুড ইনোভেশন সেন্টারের (থ্রিবিআইসি) সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, “উদ্ভাবন তখনই বাস্তব রূপ পায়, যখন গবেষণার ফল বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়। শিল্প–একাডেমিয়া সহযোগিতা হলো সেই সেতুবন্ধন, যা তত্ত্বকে বাস্তবে রূপ দেয়।”
অ্যাকাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (এএএসডিসি) পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রকৌশলী নয়, উদ্ভাবক হিসেবেও চিন্তা করতে শেখে। ‘ইউরেকা’ সেই লক্ষ্যপূরণেরই অংশ।”
কেআরএস সভাপতি নাফিস আহমেদ পান্থ বলেন, “ইউরেকা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করা। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের প্রকৃত উন্নয়নের পথ খুলে দেয়।”
বিজয়ী নুসরাত জাহান নাবিলা বলেন, “প্রথমবারের মতো ইউরেকা-১ এ বিজয়ী হতে পেরে আমি আনন্দিত। এখন গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করতে চাই। স্বাস্থ্যখাতের সাপ্লাই চেইনে হিউম্যান কোলাবোরেশন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কীভাবে অবদান রাখতে পারে, তা নিয়ে আমি কাজ করেছি।”
অন্যদিকে, থিসিস অভ দ্য ইয়ার প্রাপ্ত জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই কুয়েটে স্নাতকোত্তর করেছি। ভবিষ্যতে উচ্চতর শিক্ষার পাশাপাশি সেরেব্রোভাসকুলার ডিজিজের চিকিৎসা উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল একাডেমিক অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এএএসডিসি)।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর