প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:১২ পিএম

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় হুজুরকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাতিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— হেলাল উদ্দিন, ইমতিয়াজ, ফরিদ উদ্দিন, ওমর ফারুক, কোহিনুর বেগম, উম্মে কুলসুম, নাজিম উদ্দিন, মারজান উদ্দিন, সাইফুজ্জামান, শাহাবউদ্দিন ও মহিমা বেগম। এর মধ্যে কোহিনুর বেগম ও ফরিদ উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শাহাবউদ্দিনের ভাইয়ের মেয়ের বিয়েতে স্থানীয় সমাজের হুজুরকে বাদ দিয়ে বাইরের একজন হুজুরকে দাওয়াত দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় হেলাল মাঝি ও তার অনুসারীরা। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রবিবার বিকেলে বৈঠক বসে। বৈঠকে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়, এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
সংঘর্ষে আহত ও বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাবউদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের পারিবারিক হুজুরকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। এতে হেলাল মাঝির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ের দিন বাধা দেয়। আজ দোকানে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
অন্যদিকে আহত হেলাল উদ্দিনের দাবি, “আমি স্থানীয় মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে বিষয়টি জানতে চাইলে শাহাবউদ্দিন আমাকে হুমকি দেন। আজ আবার তার পক্ষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল আবেদীন বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। জনরোষ থেকে শাহাবউদ্দিন ও মারজানকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর