
পাবনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিনে আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ১৬টি, কিন্তু বর্তমানে ভর্তি আছেন একশ’রও বেশি রোগী—যা ধারণক্ষমতার প্রায় ছয়গুণ বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে—অর্থাৎ গরম ও শীতের মাঝামাঝি এই সময়টাতে—ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎই বেড়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পড়েছে বিপাকে।
হাসপাতালের করিডোর, বারান্দা এমনকি খোলা জায়গাতেও এখন চলছে চিকিৎসা। প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগীই অবস্থান করছেন বারান্দা ও করিডোরে, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
আরও বড় সমস্যা হচ্ছে শৌচাগার সংকট। পুরো ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শতাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি শৌচাগার—তাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, শৌচাগারের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা উন্নত করা এখন জরুরি।
দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শয্যা ও অবকাঠামোগত সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন রোগীদের সেবা দিতে। তবে এত বেশি রোগীর ভিড়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও স্বীকার করেছেন তাঁরা।
চিকিৎসা নিতে আসা আশুতোষপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ আলী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তাই সদর হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে সেবার মান খুবই খারাপ। পরীক্ষাগুলো বাইরে করতে হয়, মেশিন নষ্ট, লোকবল কম—এসব অজুহাতই শুনি।”
লাইব্রেরি বাজারের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এটা শুধু নামেই সদর হাসপাতাল। রোগীরা এখানে চিকিৎসা পায় না। ডাক্তারদের অনেকে ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত। যারা থাকে, তারা শিক্ষানবিশ ডাক্তার। সাধারণ মানুষের কষ্ট কেউ দেখছে না।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, দ্রুত শয্যা ও শৌচাগার সংকট সমাধান করে হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে রোগীদের জন্য একটি সুষ্ঠু চিকিৎসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ