প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৪৮ AM

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার।
আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফল গণনা করে রাতেই এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত শেখ নূর উদ্দীন আবির পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯০।
অন্যদিকে জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৩৭ ভোট, যেখানে শিবির সমর্থিত ফজলে রাব্বি ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৯ ভোট। ব্যবধান ৫ হাজার ৮০৮ ভোট।
সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। এই পদে শিবির সমর্থিত সালমান সাব্বির ৬ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী, ছাত্রদল সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৪১ ভোট। ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ৩০ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তারা গণতান্ত্রিক চর্চার পুনরুজ্জীবন দেখছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বিকেল শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে নারী হল দিয়ে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়।
এবারের নির্বাচনে রাকসুর ২৩ পদে ২৪৭ জন, হল সংসদের ১৫ পদে ৫৯৭ জন এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাকসুতে ভিপি পদে ১৮ জন, জিএস পদে ১৩ জন এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। সার্বিকভাবে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, আর ছয়টি নারী হলে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।