প্রথমে দেখলে মনে হতে পারে এটি কোনো বাসা-বাড়ির কক্ষ। কিন্তু না এটি একটি সরকারি কলেজের কক্ষ। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ কলেজের কক্ষকেই নিজের বসবাসের স্থানে পরিণত করেছেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের অফিস কক্ষে অবস্থান করছেন।
আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা কন্ট্রোল কক্ষে বিছানা, আসবাবপত্র রয়েছে। প্রথমের দিকে তিনি ওইখানে রান্না করেও খেতেন। তবে বর্তমানে এক কর্মচারীর বাড়ি হতে নিয়মিত খাবার নিয়ে আসা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রী কলেজে। অধ্যক্ষকের নাম প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাস হতে প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা কন্ট্রোল কক্ষে রাতযাপন করছেন। এছাড়াও তিনি কয়েকটি শ্রেণি কক্ষের দেয়াল ভেঙে কক্ষ বাড়িয়েছেন।
প্রভাষক এ কে এম গোলাম ফারুক বলেন, “আমি শিক্ষক প্রতিনিধির সেক্রেটারি, কলেজ কক্ষের দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে জোরপূর্বক ভয় ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষ আমাকে বলেছেন, আপনার অবসরের কাগজ পত্র কিন্তু আমাকেই সাক্ষর করতে হবে মর্মে আমাকে হুমকির মুখে রেখেছেন।”
প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “দেয়ালগুলো ভেঙে যে রুমগুলো বড় করা হয়েছে, এতে একাডেমি কাউন্সিলের অনুমতি দরকার কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয় সেই অনুমতি নেয়নি। তবে উপস্থিতির স্বাক্ষরে রেজুলেশন লিখে দেখানো হয়েছে। আসলে দেয়াল ভাঙার বিষয়ে কোনো মিটিং হয় নাই।”
প্রভাষক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, “কলেজে রাত্রিযাপন করার কোনো আইনি বৈধতা নেই, যেহেতু আমাদের নিজস্ব কোনো আবাসিক ভবন নেই। তাছাড়া সরকার প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ মূল বেতন থেকে ৩৫% শতাংশ দিচ্ছে। অধ্যক্ষ স্যার যে রুমে অবস্থান করছেন সেটি পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল রুম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি রুমে অবস্থান করায় পরীক্ষার সময় আমাদের নানান জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।”
কলেজের নাইট গার্ড লালমিয়া বলেন, “স্যার উপরে একটা রুমে থাকেন। তিনি বুধবার রাতে বাড়িতে যান আর রবিবার সকালে এসে কলেজ করেন। আগে তো রুমেই রান্না করে খেতেন। এখন আমি আমার বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি।”
তবে, চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তিনি জানান, কলেজের স্বার্থে তিনি একটি কক্ষে অনেক কষ্ট করে থাকেন এবং বাকি অভিযোগ গুলো অস্বীকার করেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস/ওএফ