
হাতিয়ায় পাশের হার ১৫% এর নিচে
হাতিয়ার শিক্ষাঙ্গনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এক অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দ্বীপের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ১০৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে ৭৯৮ জন। অর্থাৎ ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই ফেল করেছে। পাশের হার নেমে এসেছে মাত্র ১৫ শতাংশের নিচে।
প্রধান কলেজগুলোর ফলাফলের চিত্র:
হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ: ৪৭৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০২ ফেল
হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ: ১৭০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৭ ফেল
প্রাকৌশলী ফজলুল আজিম মহিলা কলেজ: ২৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ ফেল
তমরদ্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ২৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ ফেল
হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ: ৪৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ ফেল
মোহাম্মদ আলী কলেজ: ৮৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ ফেল
অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে কোচিং ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষার্থীরাও স্বীকার করছে, ক্লাসের অভাব এবং শিক্ষকদের অনীহা তাদের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ভৌগোলিক বৈষম্য, আধুনিক শিক্ষার অভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতাও সমস্যাকে জটিল করেছে।
শিক্ষকরা পাল্টা দাবি করছেন, শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং অভিভাবকদের তদারকির অভাবই বড় কারণ। তমরদ্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন জানান, আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিতে পারেনি।
হাতিয়া কমিউনিটি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতা ও শাসন-সোহাগ বৃদ্ধি জরুরি।
মোহাম্মদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, শিক্ষার্থী যথাযথভাবে পড়াশোনা করেনি, অনুপস্থিত থেকেছে; শিক্ষকরা চাইলে আরও মনোযোগ দিতে পারতেন; অভিভাবকরা সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন না। সমস্যার সমাধান সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব।
হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. তোফায়েল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে না, মোবাইলে বেশি সময় ব্যয় করছে এবং অভিভাবক তদারকি করছে না।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষক নয়, অভিভাবককেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে তদারকি করলে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল কেবল ব্যর্থতা নয়, বরং হাতিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার অশনিসংকেত। কার্যকর সংস্কার ও কঠোর তদারকি অবিলম্বে শুরু না হলে দ্বীপের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছিটকে যেতে পারে।
সচেতন মহল বলছে, দায় শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকের নয়; কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহি করতে হবে, না হলে এই ব্যর্থ প্রজন্ম কেবল সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে বেকার শিক্ষার্থী হিসেবেই বড় হবে।