প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২৬ পিএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৫ ৭:৪২ PM

চুরির মিথ্যা মামলায় দুই শিক্ষার্থীকে আটক ও জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা রৌমারী থানার ওসি সেলিম মালিকের অপসারণ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আটক শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দন্তভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এনামুল হককে বিনা তদন্তে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে থানায় নেয়া হয় এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে দন্তভাঙ্গা বাজার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বিক্ষোভ মিছিলটি রৌমারী উপজেলা চত্বরে পৌঁছায়। পথে ‘মাঠের ভিটা’ নামক স্থানে পুলিশ মিছিলটি থামাতে চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশের সঙ্গে কিছু দলীয় নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে জড়ো হন এবং সেখানেই পথসভা থেকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোকেয়া খাতুন বলেন, “তদন্ত না করেই দুই নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বারবার বলেছি ছেড়ে দিতে, কিন্তু পুলিশ শোনেনি। আমরা এই ওসির বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর হরিণধরা পূর্বপাড়া গ্রামের সুরুত আলীর বাড়িতে চুরি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন সুরুত আলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তদন্ত শেষ না করেই ১৩ অক্টোবর সকালে ওই দুই শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে ডেকে এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করেই পুলিশ দুই শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে যায়, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা নির্দোষ তাদের নিঃশর্ত মুক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে