প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:১০ পিএম

ইন্দুরকানীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ঘোষেরহাট বাজারের ‘আতিক ট্রেডার্স এন্টারপ্রাইজ’ নামক এক খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে। দোকানটির মালিক হেমায়েত মোল্লা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কৃষক।
ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রুস্তম আলী জানান, তিনি ৩০ কেজি ইউরিয়া সার ৯৩০ টাকায় কিনেছেন, যা সরকারি দামের তুলনায় অনেক বেশি। একই অভিযোগ করেছেন চর-হোগলাবুনিয়া এলাকার কৃষক মিজানও। তিনি বলেন, “ইউরিয়া ১ হাজার ৬০০ ও ডিএপি ১ হাজার ৩৫০ টাকায় কিনেছি, অথচ সরকারি দাম যথাক্রমে ১ হাজার ৩৫০ ও ১ হাজার ৫০ টাকা।”
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হেমায়েত মোল্লা স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের কাছেও বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। এমন অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আগেও ছিল। প্রায় সাত বছর আগে একবার সার জব্দ করে তাকে জরিমানা ও মামলা করেছিল প্রশাসন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সার কিনে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত হেমায়েত মোল্লা দাবি করেছেন, তিনি পাড়েরহাট ইউনিয়নের ডিলার তালুকদার এন্টারপ্রাইজ থেকে বেশি দামে সার কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে ডিলার তালুকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক বাহাদুর তালুকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। ইতিমধ্যে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। আমাদের উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সার বিক্রি করা যাবে না। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পেয়ে নির্বিঘ্নে ফসল উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।