বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      এনসিপি নেতাদের গণধোলাই দিতে হবে: এমদাদ চৌধুরী      ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি      ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ৩      বিগত সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট হয়েছে : ড. এম এ কাইয়ুম      আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী       নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট নয়, জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচন: ইসি      বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম      ‘বাকেরের ফাঁসি’ ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছিল মানুষ      
১৮ লাখের বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনে নেই ইন্টারনেট কানেকশন
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:০৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ২০১৮–১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা মেশিন। কিন্তু সফটওয়্যার ও সার্ভার না থাকায় এবং ইন্টারনেট সংযোগ না দেওয়ায় গত ছয় বছরেও একদিনও ব্যবহার হয়নি এসব যন্ত্র। ফলে সরকারের এই বিনিয়োগ এখন পুরোপুরি অকার্যকর ও অপচয় হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একই চিত্র, ধুলাবালিতে ঢেকে থাকা বা দেয়ালে ঝুলে থাকা বিকল মেশিন, কোথাও বা টিনের বেড়ায় পড়ে আছে অবহেলায়। কোনো বিদ্যালয়েই ডিভাইসগুলো ব্যবহারের ন্যূনতম সুযোগ তৈরি হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি সেলিমা আহমেদ মেরী তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের মেশিন ক্রয় করে উপজেলার স্কুলগুলোতে স্থাপন করেন। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বিদ্যালয় উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তবে মেশিনগুলো স্থাপনের পর কোনো তদারকি, প্রশিক্ষণ বা সফটওয়্যার সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়নি।

গাজীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব সরকার বলেন, তৎকালীন এমপি সেলিমা আহমেদ মেরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকদের জিম্মি করে তার লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক এসব মেশিন বসিয়েছিলেন। আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম, কিন্তু হুমকি-দমকির মুখে বাধ্য হয়েই মেশিন বসাতে হয়। যেখানে একটি মেশিনের প্রকৃত দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা, সেখানে আমাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা শুরুতে পরিকল্পনা করেছিলাম যাচাই-বাছাই করে ভালো মানের যন্ত্র ও সার্ভার ক্রয় করবো, যাতে উপজেলা শিক্ষা অফিস, ইউএনও ও চেয়ারম্যান শিক্ষকদের উপস্থিতি মনিটর করতে পারেন। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে মেশিনগুলো বসানো হয়। এখন সবগুলোই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, সার্ভার না থাকা এবং নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণে স্থাপনের পর থেকেই মেশিনগুলো কাজ করছে না। তারা অভিযোগ করেন, এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি অর্থ লুটপাট।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাজা মাঈনউদ্দিন বলেন, আমি নতুন এসেছি। তবে যতটুকু জেনেছি, সার্ভার না থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির যথাযথ তদারকি না থাকার কারণে মেশিনগুলো দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে এমন প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্নীতিই ঘটেছে। তারা দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়া ও দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো


আরও সংবাদ   বিষয়:  বায়োমেট্রিক   হাজিরা মেশিন  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close