প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০৭ পিএম

রৌমারীতে চোর সন্দেহে ২ শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
চোর সন্দেহে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ ও পরবর্তীতে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা।
মামলা প্রত্যাহার, দুই শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম মালিকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত পথসভায় এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বাজার থেকে ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিক্ষোভ মিছিলটি রৌমারী উপজেলা চত্বরে পৌঁছায়। পথে মাঠের ভিটে এলাকায় মিছিল থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা চত্বরে এসে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
জানা যায়, ৯ অক্টোবর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণধরা পূর্বপাড়া গ্রামে সরত আলীর বাড়িতে চুরি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন সরত আলী বাদী হয়ে রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ১৩ অক্টোবর সকালে পুলিশ সরত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে হরিণধরা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এনামুল হকসহ পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে।
এ সময় স্থানীয়রা পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন বলেন, “তদন্ত ছাড়াই নিরীহ দুই ছেলেকে ধরে নিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা বারবার অনুরোধ করলেও পুলিশ কারও কথা শোনেনি। পুলিশ বাদীর কথায় অন্যায় করছে। আমরা এই ওসির বিচার চাই।”
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম মালিক বলেন, “আমরা ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করছি। যারা জড়িত নয়, তাদের মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”