বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু      পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      
যমুনার স্রোতে তলিয়ে গেল শটগান, চলছে উদ্ধার অভিযান
মো. দিল, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:১৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদী প্রতিদিনের মতোই সেদিনও ছিল উত্তাল। মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বিত টিম নদীপথে টহল চালাচ্ছিল। কিন্তু সোমবার সকালে উল্টে যায় স্পিডবোট, স্রোতের তোড়ে পানিতে পড়ে যায় আনসার সদস্য তাবিউর রহমান রায়হানের হাতে থাকা সরকারি শটগান।

আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত চলে এই এক টানা উদ্ধার অভিযান। তবে, ফলপ্রসূ হয়নি এই অভিযান।

দেশব্যাপী চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান এখন প্রায় প্রতিটি নদী অঞ্চলে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের শৈলজানা এলাকায়ও সোমবার সকাল থেকে তেমনি এক অভিযান শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে টিমটি নদীতে গিয়েছিল নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা প্রতিরোধে। অভিযানে অংশ নেয় মৎস্য কর্মকর্তা, পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অভিযানের এক পর্যায়ে তারা যমুনার মূল স্রোতে প্রবেশ করলে হঠাৎ জোরে ধাক্কা খেয়ে স্পিডবোটটি ভারসাম্য হারায়। ইউএনওসহ সবাই পানিতে পড়ে যান। চারদিকে তখন শুধু পানি আর আতঙ্ক। পরে পাশের আরেকটি নৌকা দ্রুত এগিয়ে এসে সবাইকে উদ্ধার করে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি কিন্তু তখনই দেখা যায় আনসার সদস্য তাবিউরের কাঁধে ঝোলানো সরকারি শটগানটি আর নেই। নদীর তলদেশে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে অস্ত্রটি।

ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার সময় আমরা সবাই কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তবে সৌভাগ্যবশত দ্রুত উদ্ধার হওয়ায় কেউ আহত হইনি। কিন্তু তাবিউরের কাছে থাকা শটগানটি হাতছাড়া হয়ে যায়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আমরা থানায় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”

এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ডুবুরি দল পাঠায়। তিন দিন ধরে টানা উদ্ধার অভিযান চলছে। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত ও গভীরতা সেই প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের লিডার রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা খবর পাওয়ার পরপরই অভিযান শুরু করি। কিন্তু যমুনার ওই অংশে পানির স্রোত অত্যন্ত প্রবল। কোথাও কোথাও গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ ফুটের বেশি। নদীর তলদেশে বালুচর পরিবর্তনও দ্রুত হয়, ফলে নির্দিষ্ট জায়গা শনাক্ত করা কঠিন।”

এদিকে সরকারি উদ্ধার অভিযান চলার পাশাপাশি স্থানীয় তরুণরাও এগিয়ে এসেছে। তারা জাল ফেলে, পাথর ফেলে দিকচিহ্ন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। কেউ কেউ নিজের ছোট নৌকা ও জাল নিয়ে সাহায্য করছে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের।

স্থানীয় তরুণ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরি। খবর শুনেই নেমেছি সাহায্য করতে। প্রশাসনের ভাইয়েরা কষ্ট করে কাজ করছেন, আমরাও চেষ্টা করছি কিছু পাওয়া যায় কিনা।”

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অস্ত্র উদ্ধারে প্রয়োজনে নৌবাহিনী বা ডুবুরি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। কারণ, সরকারি অস্ত্র হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, যমুনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম প্রমত্ত নদী। এর স্রোত, গভীরতা ও বালুচরের অবস্থান প্রতিনিয়ত বদলায়। বিশেষ করে চৌহালী উপজেলা অঞ্চলে নদীর গতিপথ দ্রুত পরিবর্তিত হয়। কখনো হঠাৎ স্রোত বেড়ে গিয়ে নৌকা উল্টে দেয়, আবার কখনো ভাটির দিকে বালুচর তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভাষায় যমুনা যা নেয়, তা ফেরত দেয় না সহজে।

স্থানীয় জেলে হালিম শেখ বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে নদীতে আছি। এই জায়গায় বহু নৌকা উল্টে গেছে, মানুষও হারিয়েছে। নদীর নিচে কাদা, বালু, স্রোত সব কিছু মিলে এখানে কিছু খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন।”

চৌহালী উপজেলা প্রশাসন বলেছেন, “পুরো ঘটনাটি জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। অস্ত্রটি সরকারি সংরক্ষিত অস্ত্র হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। প্রয়োজনে উন্নত যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল আনা হবে।”

অন্যদিকে, আনসার সদস্য তাবিউর রহমান মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউএনওর নিরাপত্তায় কর্মরত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

বুধবার সকাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আবারও নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেন। তারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডাইভ করে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। নদীর গভীরতায় শূন্য দৃশ্যমানতা, কাদায় ঢেকে থাকা তলদেশ সব মিলিয়ে উদ্ধার কাজ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবুও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আশাবাদী হ‌য়ে ব‌লেন, “আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি। প্রতিদিন নতুন কৌশল নিচ্ছি। কখনো জালের সাহায্যে, কখনো মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আশা করি শটগানটি উদ্ধার করতে পারব।”

তবে এই দুর্ঘটনার মধ্যেও থেমে নেই মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান। প্রশাসনের অন্য দলগুলো প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টহল দিচ্ছে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। 

এই বিষয়ে ইউএনও বলেন, “আমরা দুর্ঘটনা সামাল দিচ্ছি, তবে মূল দায়িত্ব থেকে পিছু হটছি না। মা ইলিশ রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  যমুনা   অভিযান  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close