প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২৪ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ভাবী তানিয়া বেগমকে গলাকেটে হত্যার ১০ বছর পর এবার ৬ বছর বয়সী ভাতিজি নাহিল আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খান। শিশুটি তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত হাবিলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। রাতেই নিহত শিশুর বাবা মো. দুলাল খান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত হাবিব ও মামলার বাদী বড় ভাই দুলাল খান একই বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে হাবিব সার্বক্ষণিক নেশাগ্রস্থ থাকায় প্রায় সময়ই পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করাসহ মারধর করতেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে শিশু নাহিল বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকানে রুটি কিনতে যায়। এসময় হঠাৎ হাবিব পেছন থেকে একটি লাঠি দিয়ে নাহিলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন। শিশুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক বাবা দুলাল খান ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নাহিলের আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই চাচা হাবিবকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করেন। এসময় হাবিল একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির মাথার ডান পাশে এবং বাঁ হাতের কনুইয়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। তাৎক্ষণিক শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জানতে পারি, শিশুটি বরিশালে নেওয়ার পথেই মারা গেছে।’
উল্লেখ্য, হাবিব ওরফে হাবিল খান এ ঘটনার আগে ২০১৫ সালে আগস্ট মাসে তার বড় ভাই দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে গলাকেটে হত্যা করেন। ওই মামলায় শিশু আইনে তার ৯ বছর সাজা হয়। সাজা ভোগ শেষে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ভাবীকে হত্যার ১০ বছর পরে ঘাতক হাবিব তার বড় ভাই দুলাল খানের দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের মেয়ে নাহিলকে পিটিয়ে হত্যা করলেন।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, ‘হাবিব ওরফে হাবিল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম