প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বহুল আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। মামলায় অভিযুক্ত ১০৫ আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. জুলফিকার উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) কানিজ ফাতিমা জানান, মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন। তবে জীবিত আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি। কোনো সাক্ষীই নির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করতে না পারায় আদালত শেষ পর্যন্ত সব আসামিকে খালাস দেন।
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ম্যানহোলে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩৫ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৮ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান আদালতে ১২৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, রাজশাহী মহানগরীর তৎকালীন আমির আতাউর রহমানসহ রাবি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পরও অভিযোগের কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা না যাওয়ায় মামলার সব আসামি খালাস পান।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ