
সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের দুটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্রীজগুলোর কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবুও বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয় জনগণ বাধ্য হয়ে একই সেতু ব্যবহার করছে।
স্থানীয় ওমর ফারুক জানান, চরকিং ইউনিয়নের ব্রিজ বাজার সংলগ্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ভৈরব বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কে অবস্থিত দুটি পাকা ব্রীজ প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রীজগুলোর রেলিং ভেঙে গেছে, ফাঁটল সৃষ্টি হয়েছে, নিচের মাটি সরে গিয়ে কাঠামোর অনেক জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে নিচের মাটির স্লাইডিং বেড়ে যায়, ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, রোগী পরিবহনকারী যানবাহন এবং বাজারমুখী ব্যবসায়ীরা এখন এই সেতুগুলোকে আতঙ্কের নাম হিসেবে উল্লেখ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছে।
ব্রিজ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও চরকিং ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পল্লী চিকিৎসক আবদুল হালিম বলেন, আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা সবার কাছ থেকে টাকা তুলে ব্রীজের ওপর কাঠের তক্তা বিছিয়ে জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। প্রতি বর্ষায় ব্রীজের নিচের মাটি ধসে কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে যায়। ইতোমধ্যে একাধিক মোটরসাইকেল, ভ্যান ও রিকশা দুর্ঘটনায় পড়েছে। কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত বিষয়টি জানানো হলেও কোনো মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে শুনেছি কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা আছে।
বাসিন্দা আব্দুল শহিদ বলেন, কয়েক বছর আগে জোয়ারের পানির স্রোতে ব্রীজটির রেলিং ও পাশের অংশ ভেঙে গেছে। অর্ধেকের বেশি জায়গায় ফাটল ধরে আছে। এতদিনেও কেউ এসে সংস্কারের কথা তো দূরের কথা খোঁজও নেয়নি। বাধ্য হয়ে মানুষ প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে এই ব্রিজ পার হচ্ছে।
চরকিং ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা ৪,৫২,৪৬৩। এর মধ্যে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এই দুই ব্রীজ ব্যবহার করে নলচিরা, আফাজিয়া, তমরুদ্দিন, চেয়ারম্যানঘাটসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। শুধু মানুষের চলাচল নয়, মালামাল পরিবহন, কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, রোগী স্থানান্তর ও জরুরি কাজেও এই সড়ক ও সেতুগুলো অপরিহার্য।
এই বিষয়ে চরকিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। আশা করছি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় প্রবীণ সচেতন ব্যক্তি আবদুর রহমান এবং নাগরিক সমাজের সদস্যরা জানিয়েছেন, সড়ক ও ব্রীজ দুটির বর্তমান অবস্থা অচিরেই সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। জনগণের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো