
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ যশোর শহরের বকুলতলায় স্থাপন করা হলো জুলাই বিপ্লবের ভাষ্কর্য। এটি এদেশে স্বৈরাচার পতনের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ‘জুলাই ভাস্কর্য’ নামে পরিচিত। প্রায় ৪৩০ দিন পর শহরের বকুলতলা মোড়ে ‘জুলাই মনুমেন্ট’ বা ‘জুলাই ভাষ্কর্য’ স্থাপিত হলো। গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধানে এটি ‘জুলাই স্মৃতি বেদী’তে স্থাপন করা হয়েছে।
সারা দেশের জেলা শহর বা কোনো কোনো উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই আকৃতির এই জুলাই স্মৃতি চিহ্ন বা ভাষ্কর্য ধাপে ধাপে স্থাপন করা হচ্ছে।
দেশের একজন স্বৈরশাসককে যখন গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করার সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, তৃষ্ণা, সৌরভ, জাহাঙ্গীর, পবন, সাদিক, শাহাদত, আব্দুল্লাহ, জাবের, হোসেন, সাখাওয়াত, নাছির, কাকন, তাপস, জুবায়ের, জব্বার, নয়নের মতো বিভিন্ন পেশার শত সহস্র নিরস্ত্র মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করে।
ছাত্রদের একটি সামান্য কোটা বিরোধী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় নিরস্ত্র জনতার ওপর শাসক দলের সশস্ত্র আক্রমণে, যা পরিণত হয় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এর শেষ পরিণতি ঘটে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং স্বপরিবারে ভারত পালিয়ে যাওয়া। দেশ তখন গণতন্ত্রের নতুন পথ খুঁজে পায়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম, বর্ষা বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে, বেশ কিছুদিন আগে এই ভাষ্কর্যের শিলান্যাস করেন।
তিনি গত ১৪ জুলাই (সোমবার) যশোর শহরের বকুলতলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সারাদেশের মতো যশোরেও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৯৭১-এ বহু রক্তের বিনিময়ে বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আর ২০২৪-এ দেশের ভেতরের ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে লড়াই করে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সেই সাহস, ত্যাগ আর প্রত্যয়ের স্মারক এই স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ। এর জন্য বরাদ্দ ১৪ লাখ টাকা। স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। এর বিভিন্ন অংশে খোদাই করা হবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর সময় রাজপথে উচ্চারিত উদ্দীপনামূলক স্লোগান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই স্থানে এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর, গত ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সেই ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেয়। সেই স্থানেই এখন নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম